দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক মহড়ায় অংশ নেওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছে, এই অঞ্চলে কোনো ‘অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা বৃদ্ধি’ ঘটলে এর দায় সিউল ও ওয়াশিংটনকে নিতে হবে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ এই মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ‘রিম অব দ্য প্যাসিফিক এক্সারসাইজ’ বা রিমপ্যাক সামুদ্রিক মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার অংশগ্রহণের পর। এবারের মহড়ায় প্রথমবারের মতো দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনী সামুদ্রিক বাহিনীগুলোর নেতৃত্ব দেয়।
রিমপ্যাককে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক মহড়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা প্রতি দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। মহড়ায় এ বছর প্রায় ৩০টি দেশ অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে জাপান, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াও ছিল।
কেসিএনএ বলেছে, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার পুতুল বাহিনী প্রধান অংশ হিসেবে এতে যোগ দিয়েছে।’ একই সঙ্গে তারা দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর সম্পর্ক জোরদারের বিষয় উল্লেখ করে বলেছে, ‘সামরিক যোগসাজশ ক্রমেই প্রকাশ্য হয়ে উঠছে।’
প্রায় এক বছর তিন মাস পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়াকে বোঝাতে ‘পুতুল’ শব্দটি ব্যবহার করল। এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে একটি প্রশিক্ষণ চলাকালে গ্যাংওন প্রদেশের পার্বত্য এলাকায় একটি বিমান থেকে জ্বালানি ট্যাংক ও অস্ত্র বহনের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যাওয়ার ঘটনার পর এ শব্দ ব্যবহার করেছিল পিয়ংইয়ং।
কেসিএনএ আরও বলেছে, রিমপ্যাক কোনো ‘কাল্পনিক শত্রুর বিরুদ্ধে সাধারণ মহড়া’ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত যুদ্ধ প্রদর্শনী।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলেছে, এসব ঘটনা প্রমাণ করে কোন শক্তিগুলো প্রকৃতপক্ষে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার ভিত্তিকে নড়বড়ে করছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি মোকাবিলা না করলে কোরীয় উপদ্বীপ ও আশপাশের অঞ্চলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মেরিন মহড়ারও সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ইউএসএস এসেক্স থেকে পরিচালিত ওই যৌথ বিমান মহড়ায় ‘শত্রুর পেছনের এলাকায় গভীর অনুপ্রবেশের’ অনুশীলন করা হয়েছে।
এই সমালোচনা এমন এক সময়ে এলো, যখন উত্তর কোরিয়া নিজেদের নৌ সক্ষমতা আধুনিকায়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছে। চলতি মাসের শুরুতে কেসিএনএ জানিয়েছিল, দেশটির নেতা কিম জং উন নতুন ৫ হাজার টন ওজনের যুদ্ধজাহাজ ‘কাং কন’-এ থাকা অস্ত্রব্যবস্থার পরীক্ষা এবং কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স
/অ